জেন-জিদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি, তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জেন-জিদের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এবং আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠী।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শনিবারের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি, চেকপোস্ট স্থাপন এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো শহরে দিল্লি পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ২৩ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে। বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে, দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠীকেও। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থাতেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ। বাতিল করা হয়েছে কয়েক শ দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন। অন্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীরা যাতে দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ।

শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অডিও ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চারপাশে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি। যন্তর-মন্তরে স্থাপন করা হয়েছে সাত স্তরের ব্যারিকেড। বিভিন্ন বাসে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশ থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে গাড়িতে তোলার অভিযোগও উঠেছে।

এ পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ অবরোধ নয়, বরং পুরো শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এমনকি একজন সংসদ সদস্য হয়েও তিনি দিল্লির রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছেন না।

জন ব্রিটাস আরও বলেন, তাঁকে অন্তত ছয়টি জায়গায় আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র বলা যায় কি না। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধকবলিত কোনো দেশেও এমন পরিস্থিতি দেখা যায় না।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ (সিজেপি)। সংগঠনটির উদ্যোগেই ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ