তাহিরপুরে হাউজবোটকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে রক্তি নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বাবুল মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় হাউজবোট ও মালবাহী নৌকা রাখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর পাতারী এলাকায় রক্তি নদী থেকে আমান উল্লাহ আমিন (২২) নামের ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। তিনি একটি মালবাহী নৌকার স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর রাত ২ থেকে ৩টার মধ্যে আনোয়ারপুর পাতারী এলাকায় NAUTILUS (KTV) নামের একটি হাউজবোটের লোকজনের সঙ্গে মালবাহী নৌকা রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাউজবোটের ১০ থেকে ১৫ জন লোক মালবাহী নৌকায় থাকা পাঁচজন স্টাফ ও তিনজন যাত্রীর ওপর হামলা চালায়। মারধরের সময় নৌকার মালিক কামাল মিয়াকে আটক করা হয়।
হামলার মুখে নৌকায় থাকা অন্যরা রক্তি নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও আমিন নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা এসে কামাল মিয়াকে উদ্ধার করে। এরপর বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় কামাল মিয়া তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে হাউজবোটের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়। আপোষের আলোচনা চলার মধ্যেই নিখোঁজ আমিনের মরদেহ নদীতে ভেসে ওঠে।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং হাউজবোটে থাকা এক নারীসহ মোট ৯ জনকে আটক করে হাউজবোটসহ থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের পিতা কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
তাহিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুশংকর পাল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :