তুচ্ছ বিরোধে গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম, ৭ বছরের শিশুকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: হাসান হাওলাদার :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে লোহার খন্তি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তাঁর সাত বছর বয়সী কন্যাকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গত ১০ জুন বিকেলে কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাসারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ শাফিয়া বেগম বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাথায় মারাত্মক আঘাতের কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নাজমা বেগম ও ভুক্তভোগী শাফিয়া বেগম পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে উঠানে কাপড় শুকানোকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে নাজমা বেগম ঘর থেকে লোহার সাবল বা খন্তি এনে শাফিয়া বেগমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শাফিয়াকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় সবাই আহত গৃহবধূকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সুযোগ নেয় অভিযুক্ত নাজমা বেগম। তিনি শাফিয়ার সাত বছরের কন্যাকে উঠান থেকে টেনেহিঁচড়ে নিজের ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
প্রতিবেশী রুহুল আমিন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দ্রুত ঘরের ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, সময়মতো শিশুটিকে উদ্ধার করা না গেলে বড় ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটতে পারত।
আহত গৃহবধূর স্বামী ইটভাটা শ্রমিক আবুল কাশেম বলেন, তাঁর স্ত্রীর মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তিনি একাধিকবার জ্ঞান হারিয়েছেন। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নেওয়ার কথা বলেছেন। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত নাজমা বেগম ও তাঁর স্বামী আনোয়ার পলাতক রয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় ঘর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদুল আলম জানান, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :