ক্ষমতা নয়, আইনের মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালিত হোক : জাতিসংঘ মহাসচিব


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার এবং সামরিক শক্তির পালাবদলের মধ্যেও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকট আলাদা কোনো ঘটনা নয়; এগুলো একই গল্পের অংশ। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতা- কার হাতে ক্ষমতা রয়েছে এবং কার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

গাজায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে গুতেরেস বলেন, হামাসের ভয়াবহ হামলার প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। এরপর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের বছরগুলোতে তিনি এর মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতি আর দেখেননি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একটি পরামর্শমূলক মতামতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গাজায় জাতিসংঘকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং জাতিসংঘের কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

এআইয়ে বদলে যাচ্ছে বিশ্বক্ষমতার কাঠামো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, বিশ্বক্ষমতা মূলত তিনটি উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রথমত, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ক্রমেই ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের দিকে ক্ষমতা স্থানান্তরিত হচ্ছে, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির বিষয়টিও রয়েছে।

বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো এসব পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের বিভাজনের রেখাগুলো ক্রমেই আরও প্রশস্ত হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে গুতেরেস রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেন, এর ফলে ইউক্রেন জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি বর্বর যুদ্ধের শিকার হয়েছে। সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থাকা এলাকাতেও এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি ও সংযমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গুতেরেস বলেন, একুশ শতকে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো সংযমের উপস্থিতি। প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক শক্তি একা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

তিনি বলেন, এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।

নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসনের দাবি

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য অন্তত একটি স্থায়ী আসন দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন গুতেরেস। তিনি বলেন, একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন না থাকা অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। এটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করা এই কাঠামোয় আফ্রিকার পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টন করা হলেও এসব সদস্যের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মতো ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে আফ্রিকার জন্য দুটি স্থায়ী ও আরও দুটি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ