পাবনায় চরম লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, গরমে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: ইমরান হোসেন, পাবনা সদর প্রতিনিধি :
প্রায় এক মাস ধরে পাবনায় বেড়েই চলেছে লোডশেডিং। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন পরীক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা। একই সঙ্গে স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনে চার থেকে পাঁচবার এবং রাতে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। ধর্মীয় উপাসনাসহ দৈনন্দিন জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
পাবনা শহরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতারা দোকানে ঢুকেই ফিরে যান। একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান চলে না, গরমে মানুষ দোকানে থাকতে চায় না। দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ গেলে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “রোববার আমাদের চাহিদা ছিল ১০৩ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া গেছে ৮৭ মেগাওয়াট। কয়েক দিন আগে চাহিদার মাত্র ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং লোডশেডিং আগের তুলনায় কমেছে।”
এদিকে এপ্রিলের শুরু থেকেই পাবনায় তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বের হলে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শরীর বেয়ে ঝরছে ঘাম, নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, বর্তমানে পাবনার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন ধরে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও গরমের তীব্রতা কমছে না।
এই অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পাবনাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :