জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
আগামীকাল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্নমতের মানুষ এবং সাধারণ জনগণ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ অসংখ্য সাহসী তরুণ গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহস ও প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বা দৃষ্টিশক্তি হারান।
তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত জাতীয় ঐক্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে সেই ভিন্নমত যেন বিভাজন বা সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের জায়গা হবে না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের শহীদদের মতোই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :