পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে রোয়াংছড়ির পর্যটন খাত বিপর্যস্ত, কর্মহীন শতাধিক শ্রমজীবী পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
চিংনুমং মারমা, রোয়াংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় শতাধিক পর্যটক গাইড, নৌকাচালক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকসহ পর্যটননির্ভর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট ও মানবিক দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ, যাদের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে।
রোয়াংছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দেবতাখুম ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় অর্থনীতিও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পর্যটক পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ৮টি নৌকা ও ৭০টি বাঁশের ভেলা ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত দেবতাখুমে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম হারিয়ে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাইডরা।
রোয়াংছড়ি উপজেলা টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চিংনুমং মারমা বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গাইড ও মাঝিদের জীবিকা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত জরুরি ত্রাণ সহায়তা না পেলে এসব শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের কয়েক দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পর্যটননির্ভর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর ত্রাণ বা পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছেনি। ফলে দিন দিন সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের উচ্চপর্যায়, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত মানবিক সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :