বাবার দাফনের পর রাতেই চাকরি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ইসমাইল
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বাগেরহাট সংবাদদাতা :
বাবাকে হারানোর গভীর শোক, সংসারের অনিশ্চয়তা আর দায়িত্বের ভার কাঁধে নিয়েও থেমে যাননি ইসমাইল ইকন। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়। বাগেরহাটের এই শিক্ষার্থীর অদম্য সংগ্রামের গল্প ছুঁয়ে গেছে অনেকের হৃদয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর রাতে বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ইসমাইলের বাবা, ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিজের দায়িত্ব পালন করেন ইসমাইল। দায়িত্ব শেষে বুধবার সকালে সরকারি পিসি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
ইসমাইলের পরিবারে ছিলেন বাবা, মা, মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাই এবং তিনি নিজে। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাতেন তার বাবা। আর্থিক সংকটের মধ্যেই টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন ইসমাইল। পরে চলতি বছরের মে মাসে কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে চাকরি নেন। এসএসসিতে জিপিএ-৪.১১ পাওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী বর্তমানে খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
ইসমাইল ইকন বলেন, "সংসারে অনেকদিন ধরেই অভাব ছিল। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করতে হয়েছে। বাবা চলে যাওয়ার পর এখন মা ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ভাইয়ের দায়িত্ব আমার কাঁধে। যত কষ্টই হোক, পড়াশোনা ও চাকরি একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চাই।"
বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ফকির জানান, ইসমাইল একজন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী কর্মী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি টিউশনি করে নিজের শিক্ষার ব্যয় বহন করতেন।
খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখী বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও ইসমাইল পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোতে সে ভালো ফল করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এইচএসসিতেও সে ভালো ফল করবে এবং উচ্চশিক্ষার পথেও কলেজের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
ইসমাইল ইকনের এই সংগ্রামী জীবন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের তার পরিবার এবং উচ্চশিক্ষার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :