টোল নৈরাজ্যের অভিযোগ, অতিরিক্ত আদায় ও হয়রানির প্রতিবাদে শ্রমিকদের ক্ষোভ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

বাবুল মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার :
‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পাটলাই নদীর কামালপুর ও যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর টোল আদায়ের নামে সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বালু, পাথর, কয়লা ও চুনাপাথর বহনকারী নৌযান থেকে নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে নৌকা আটকে রাখা এবং শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ইজারাদার পক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকায় পাটলাই নদীর টোল ঘাটের ইজারা পেয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, জুন মাসে যেখানে প্রতি টনে ৩৪ টাকা টোল ছিল, সেখানে ১ জুলাই থেকে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো বৈধ রশিদ বা সরকারি টোল চার্ট ছাড়াই ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও ‘কোটগারী’ নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে অতিরিক্ত টোল আদায় ও হয়রানির প্রতিবাদে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা চার দফা দাবিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে টোল নৈরাজ্য বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাটলাই ও যাদুকাটা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। গত ১ জুলাই থেকে প্রায় ৩ শতাধিক নৌকা নিয়ে কামালপুর টোল ঘাট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিও চলছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল দাবি করায় শতাধিক নৌকা আটকে রয়েছে। এতে পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

নৌ শ্রমিকরা জানান, অতিরিক্ত টোল ও চাঁদা দিতে গিয়ে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে অভিযোগ করেন, একাধিক স্থানে চাঁদা দিতে হওয়ায় পুরো পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে টোল প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত অর্থ দিতে গিয়ে প্রতি নৌকার পরিবহন খরচ ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যবসার জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনছে।

অন্যদিকে ইজারাদার নাছির মিয়া অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সরকারের নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা, যাতে নদীপথে স্বাভাবিক পরিবহন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা যায়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ