নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ ডিএমপি, উৎসবে নেই কোনো শঙ্কা : ডিএমপি কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরোয়ার। তিনি বলেছেন, উৎসবকে ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাপক ও সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনা বটমূলে বৈশাখী আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও কে-৯ টিম দ্বারা সুইপিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রবেশপথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের তল্লাশি করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানস্থলে মুখোশ, ব্যাগ ও ধারালো বস্তু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে স্থান ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফানুস ও আতশবাজি ফোটানো এবং শব্দদূষণকারী বাঁশি ব্যবহারও নিষিদ্ধ থাকবে।
রমনা পার্কে প্রবেশের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি জানান, ভোর ৫টা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য গেট খোলা থাকবে, তবে বিকাল ৫টার পর আর প্রবেশ করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে এলাকা ত্যাগ করতে হবে।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে। এ অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য অরুণোদয় গেট, রমনা রেস্তোরাঁ গেট ও শিশু পার্ক সংলগ্ন অস্তাচল গেট ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে, বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি ঘুরে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হবে।
ডিএমপি জানায়, পুরো আয়োজন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
উৎসব চলাকালে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম এবং ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ সেন্টার স্থাপন করা হবে।
এদিকে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রমনা, শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড ও ডাইভারশন দেওয়া হবে, যার ফলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি নির্ধারিত কিছু স্থানে সীমিত পরিসরে যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উৎসবকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
আপনার মতামত লিখুন :