মিস ওয়ার্ল্ড থেকে বলিউডের মহাতারকা, ৫৩ বছরে ঐশ্বরিয়া রাই


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

বিনোদন ডেস্ক :

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউড, এরপর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। কখনো প্রেমে মগ্ন পারু, কখনো প্রাণবন্ত শার্লি, আবার কখনো রহস্যময় সুনেহরি। অভিনয়, সৌন্দর্য, ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের অনন্য সমন্বয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

আজ ১ নভেম্বর, ৫৩ বছরে পা দিলেন এই অভিনেত্রী। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন ঐশ্বরিয়া। মডেলিংয়ের মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করা এই অভিনেত্রী ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জয়ের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেন। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার নতুন পথচলা।

১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। তবে ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের বিশেষ নজর কাড়েন তিনি।

এরপর ‘তাল’, ‘মোহাব্বতে’, ‘দেবদাস’, ‘ধুম ২’, ‘গুরু’ ও ‘যোধা আকবর’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। তার অভিনীত বেশ কিছু চরিত্র আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

পারু হয়ে দর্শকের হৃদয়ে

সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে পার্বতী বা পারু চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। প্রেম, অপেক্ষা ও বিরহের আবেগঘন চরিত্রটিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০০২ সালে সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।

শার্লি ও মানসীতে ভিন্ন রূপ

‘জোশ’ সিনেমায় শার্লি ডায়াস চরিত্রে প্রাণবন্ত এক তরুণীর ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। গোয়ার তরুণী শার্লির সাজপোশাক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। অন্যদিকে, ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের নাচ, অভিনয় ও সৌন্দর্যে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।

মেঘা থেকে আমিরান

২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় মেঘা চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। শাহরুখ খানের বিপরীতে পর্দায় তার উপস্থিতি ছিল স্বল্প সময়ের, কিন্তু গল্পে চরিত্রটির গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।

২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। এর আগে ১৯৮১ সালের একই নামের সিনেমায় চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন রেখা। নতুন সংস্করণে নিজের অভিনয়, নাচ ও পোশাকের মাধ্যমে চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেন ঐশ্বরিয়া।

বিনোদিনী ও নীরজায় অভিনয়ের ভিন্ন মাত্রা

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ২০০৩ সালের বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় এক শিক্ষিত তরুণ বিধবার জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের সংকট ফুটে ওঠে। সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটির আবেগ, বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক প্রতিবাদকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলেন তিনি।

একই পরিচালকের ‘রেইনকোট’ সিনেমায় নীরজা চরিত্রেও নিজের অভিনয়ের ভিন্নতা তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া। অজয় দেবগনের বিপরীতে অভিনীত এই সিনেমায় অতীতের প্রেম, বর্তমান জীবনের সংকট ও অপূর্ণতার গল্প উঠে আসে।

সুনেহরি ও সাবায় নজরকাড়া উপস্থিতি

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুম ২’ সিনেমায় হৃত্বিক রোশনের বিপরীতে সুনেহরি চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। চতুর, রহস্যময় ও স্টাইলিশ চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ভূমিকায় পরিণত হয়।

২০১৬ সালে ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমায় সাবা তালিয়ার খান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পেশায় আর্ট কিউরেটর সাবার চরিত্রে পর্দায় উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও দর্শকের নজর কেড়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উজ্জ্বল ঐশ্বরিয়া

বলিউডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ ও ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো ইংরেজি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায়ও দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ঐশ্বরিয়া। ২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনীতে প্রথমবার কান উৎসবে অংশ নেন তিনি। ২০০৩ সালে উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনায় এসেছে তার কান উপস্থিতি ও ফ্যাশন।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারও তাকে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা দেয়।

ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান আরাধ্যা বচ্চন।

মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জয় থেকে বলিউডের স্মরণীয় চরিত্র, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র কিংবা কান উৎসবের লালগালিচা—সবখানেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সৌন্দর্যের পরিচিতিকে ছাপিয়ে অভিনয়ের বৈচিত্র্য ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোচিত তারকাদের তালিকায়। ৫৩তম জন্মদিনে তার বর্ণাঢ্য পথচলা আবারও স্মরণ করছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ