টানা ছয় দিন পর কাপ্তাই হ্রদের পানি থেকে ভেসে উঠল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: সুমন খান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
টানা ছয় দিন কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে ডুবে থাকার পর অবশেষে পানির ওপরে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির প্রতীকখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। পানি সরে যাওয়ার পর সেতুটির সংস্কারকাজ শেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে পর্যটকদের চলাচলের জন্য এটি আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা।
তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলের দিকে ঝুলন্ত সেতু থেকে পানি সরে যায়। এরপর সেতুটির প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছুদিন চলাচল বন্ধ রাখা হলেও এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘সেতুটি সংস্কারের কাজ করছি। পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ দুপুর থেকে সেতুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।’ এখন থেকে আগত পর্যটকদের কাছ থেকে সেতুতে চলাচলের জন্য পুনরায় টিকিটের টাকা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে গত ২৯ আগস্ট পানির নিচে তলিয়ে যায় রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি। একই সময়ে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।
সেতুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ওইদিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওইদিন রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ নয়নাভিরাম এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতুটি স্থল ও জলপথে সহজেই যাতায়াতযোগ্য হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য এই স্থাপনাটি বর্তমানে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত। ছয় দিন পানির নিচে থাকার পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ায় সেতুটিকে ঘিরে রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্রে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
আপনার মতামত লিখুন :