ওসমানীনগরে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

শরীফ আহমদ চৌধুরী , ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা :

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান থাকলেও সিলেটের ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের একটি সরকারি গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান দেখিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বুরুঙ্গাবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুখে থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বড় রেইনট্রি (শিরীষ) গাছ কেটে নিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারই গ্রামের কামাল হোসেন, পূর্ব ব্রাহ্মণগ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে এই চক্র।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি ও উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র রয়েছে দাবি করে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে গাছ কাটার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি জব্দ করার নির্দেশ দেন। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা গাছের অধিকাংশ অংশ কেটে সরিয়ে নেয়। পরে অবশিষ্ট অংশ প্রশাসনের মাধ্যমে জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর জব্দকৃত গাছ নিলামের দাবি তুলে কামাল হোসেনের সহযোগী মকবুল ইউএনও কার্যালয়ে একটি ব্যাংক চালান জমা দেন। তিনি দাবি করেন, গাছের মূল্য সোনালী ব্যাংকের তাজপুর শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চালানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ইউএনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে তিনি স্বীকার করেন, কামাল হোসেনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনেছেন এবং বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য একদিন সময় চান।

সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালে ওই এলাকায় কোনো গাছ কাটার অনুমতি বা নিলাম বন বিভাগ দেয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ এলাকায় সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছালিকুর রহমান ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক বনায়নের অবশিষ্ট সরকারি গাছও একই চক্রের হাতে উজাড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ