বিচার বিভাগে আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

অনলাইন ডেস্ক :

আদালত যদি হয়রানির জায়গা না হয়ে ন্যায়বিচারের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মানুষের আস্থার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে সমাজ থেকে ‘মব ভায়োলেন্স’ও দূর হবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে ‘ন্যায় ও আস্থার’ জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

সোমবার সকাল ১১টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। এখন সময় এসেছে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা তাঁবেদার শক্তি জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। সে লক্ষ্যেই দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়। সামাজিক ভারসাম্য, সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ন্যায়বিচার আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে আইনের দোহাই থাকলেও ন্যায়বিচার ছিল না।

ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা কার্যকর হতে আদালত থেকে জেলখানা পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পেরোতে হতো। এখন ইলেকট্রনিক জামিননামা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি যেমন কমছে, তেমনি জালিয়াতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতার সুযোগও হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি জানান, আজ থেকে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া—এই সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু হলো। ভবিষ্যতে দেশের সব আদালতকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে ই-বেইলবন্ড সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, মানসিকতারও পরিবর্তন চায়। এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য আইন ও বিচার এক হবে। ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

কারাগারে দীর্ঘদিন বিনাবিচারে থাকা বন্দিদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষ অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর জেলে থাকেন। এ সমস্যা সমাধানে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে তিনি আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-বেইলবন্ডসহ বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর জনদুর্ভোগ কমাবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সূত্র : বাসস


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ