শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হলে জাতির দীনতা প্রকাশ পায় : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে শিক্ষকদের ঘুষ দিতে হলে কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি চাকরিজীবন শেষে নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের প্রতি অবিচার নয়, জাতি হিসেবেও আমাদের জন্য লজ্জার।
তিনি বলেন, অবসরের পর প্রাপ্য অর্থ পেতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিন নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের জমানো টাকা তুলতে ঘুষ দেওয়ার একটি অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর সরকারি দুটি তহবিলে জমানো অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।
এই দুটি তহবিলের একটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমানো অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, এখন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না ফেলে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া তৈরি করা সহজ ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতে লুটপাটের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও অনিয়মের শিকার হয়েছে। জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসব কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এরপরও অনলাইনে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ বিভিন্ন দেশে মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে সকালে একই ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। দেশের ৬৪ জেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :