বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ মরদেহ উদ্ধার, একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

জাকিয়া সুলতানা, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :

বরগুনার সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ, গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তি এবং সড়কের পাশে পড়ে থাকা এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

একই দিন সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলার একটি এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন কথিত মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন (কালু) ও তাঁর সহযোগীরা। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কালু বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন (কালু)। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অন্যদিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে শনিবার ভোরে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা সড়কের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। নিহত মিজানুর রহমান পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া বামনা উপজেলাতেও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সেখানে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলীম জানান, সদর উপজেলায় উদ্ধার হওয়া দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অল্প সময়ের মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য জানা যাবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ