একটি ছোট সেতুর অপেক্ষায় চার গ্রাম, বাঁশের সাঁকোই ভরসা হাজারো মানুষের


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো: মানসুরুল হক রবিন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝি বাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা খালের ওপর একটি ছোট সেতুর অভাবে আজও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোসেনপুর উপজেলার অংশে খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর, মাঝিপাড়া, সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম এবং গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম সংযোগপথ এটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সাঁকো ব্যবহার করে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে যাতায়াত করেন।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের ওপারে। ফলে কৃষকদের ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়িতে আনতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক সময় কৃষিপণ্য নষ্টও হয়ে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরেজমিনে কথা হলে সাবেক গ্রাম সরকার আবেদ আলী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট্ট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। আমাদের একটাই দাবি- দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন বলেন, “আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়।”

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুম বলেন, “এটি শুধু একটি গ্রামের দাবি নয়, চার গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিলে দ্রুতই এখানে একটি সেতু নির্মাণ সম্ভব।

স্কুলশিক্ষার্থী আশিক জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা একটি নিরাপদ সেতু চাই।

এলাকার প্রবীণদের দাবি, অতীতে একাধিকবার সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি ছোট সেতু নির্মাণ হলে চার গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ