উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক পিআইও গ্রেফতার


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

চিংনুমং মারমা, রোয়াংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদারকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) পার্ট-১-এর ৭৩ নম্বর বিধির নোট-২ অনুযায়ী তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, রোয়াংছড়ি উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার সময়ে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। অনেক প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও কাগজপত্রে কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং জেলা কর্ণধার কমিটির অনুমোদনের পর বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসকদের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রোয়াংছড়ি উপজেলায় কাবিটা ও কাবিখার প্রথম, দ্বিতীয় ও বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ২৫টি প্রকল্পে নগদ ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৮ টাকা, ছয়টি প্রকল্পে ৪৬ দশমিক ১৬৯৯ মেট্রিক টন চাল এবং পাঁচটি প্রকল্পে সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া টিআর কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১৬টি প্রকল্পে ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৯টি প্রকল্পে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্রকল্পে ২৬ দশমিক ৭৩ মেট্রিক টন চাল এবং পাঁচটি প্রকল্পে সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৭ টাকা ৬০ পয়সা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ হয়নি। কোথাও কাজ আংশিক সম্পন্ন করে পুরো বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হয়ে অপব্যবহার ও আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সরকারি অর্থ অপব্যবহার ও আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মিলটন দস্তিদারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


ad728