দখলদারিত্ব শেষ না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক অসম্ভব : মিশর প্রেসিডেন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান না হলে দেশটির সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তিনি বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
রোববার এক প্রতিবেদনে এই বক্তব্য তুলে ধরে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে আল-সিসি বলেন, দখলদারিত্বের অবসান, অন্যায় ও আগ্রাসন বন্ধ এবং প্রকৃত অধিকারীদের অধিকার ফিরিয়ে না দিলে জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এক বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রয়োজন, যা সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্থায়ী স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের টেকসই সমাধান হিসেবে তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন-এর মধ্যে একটি সর্বাত্মক শান্তিচুক্তির ওপর জোর দেন।
আল-সিসির এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মিসর ছিল প্রথম আরব রাষ্ট্র, যারা ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। যদিও সেই চুক্তির পর কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কায়রো বরাবরই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি এবং এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চললেও, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি এখনো সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। আল-সিসির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন :