এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানি হ্যাকারদের, ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে সাইবার হামলার শঙ্কা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ড্রোন হ্যাক করার দাবি করেছে ইরানের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। এতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জেরুজালেমভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হান্দালা’ নামে পরিচিত একটি ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠীর বিবৃতি প্রকাশ করেছে গবেষণা ও নজরদারি সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

হ্যাকারদের দাবি, তারা কয়েক মাস ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহৃত ফার্স্ট পারসন ভিউ বা প্রত্যক্ষ দৃশ্য ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা প্রতিটি ছবি এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্যের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহৃত এসব ড্রোনে মুখ শনাক্তকরণ এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট যাচাইয়ের প্রযুক্তি রয়েছে।

এক বিবৃতিতে হান্দালা গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে জানায়, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা উচিত। তারা বলে, “আমরা কিছু দলকে একেবারেই পছন্দ করি না। মনে রাখবেন, এই ড্রোন সব জায়গায় রয়েছে। কখন কোনটি আপনার দলের বাসের কাছে চলে আসে, আপনি তা বুঝতেও পারবেন না।”

মূলত বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন বিমান ও ড্রোন প্রতিরোধে এসব ড্রোন মোতায়েন করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে স্টেডিয়াম এবং ভক্তদের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলোতে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি অবৈধ ড্রোন কার্যক্রম মোকাবিলায় স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ফেডারেল অনুদানের আওতায় এই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

হান্দালা গোষ্ঠী হ্যাক করা ড্রোন থেকে নেওয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশের দাবি করলেও সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে, এই দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি জানায়, হ্যাকারদের প্রকাশ করা ভিডিওগুলোর একটি আসলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৈরি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের প্রচারণামূলক ভিডিও, যা একটি মার্কিন পুলিশ বিভাগের টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে হান্দালা গোষ্ঠী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করে। সে সময় তারা অনলাইনে তার ব্যক্তিগত ছবি ও বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই হ্যাকার গোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্তে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার প্রভাব বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ