বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের ঝুঁকি, নদীভাঙন ও মাদক বিস্তারে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জাকিয়া সুলতানা, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জেলার ছয়টি উপজেলা- বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী—নিয়ে গঠিত প্রশাসনিক কাঠামো বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মৌসুমে উপকূলীয় জনপদে আতঙ্ক বাড়ে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় দুর্যোগের পর সাময়িক সংস্কার করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
বিষখালী, বলেশ্বর, পায়রা ও সুগন্ধা নদী বরগুনার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও ভাঙন ও নাব্যতা সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌপথ সংকুচিত হয়ে পণ্য পরিবহন ও মৎস্য আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত ড্রেজিং ও কার্যকর নদীশাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পাথরঘাটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হলেও অতিরিক্ত আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মৎস্যখাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত বরফকল ও হিমাগার না থাকায় অনেক মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়া বরগুনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সীমিত কর্মসংস্থান, সামাজিক অবক্ষয় এবং সচেতনতার অভাবকে এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সামাজিক উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও আবাসন সুবিধার ঘাটতিতে টেংরাগিরি, হরিণঘাটা, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ও বিবিচিনি শাহী মসজিদের মতো স্থানগুলো এখনও পূর্ণ সম্ভাবনায় বিকশিত হয়নি।
কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও রয়েছে নানা সমস্যা। আধুনিক সংরক্ষণাগার, কোল্ডস্টোরেজ, কারিগরি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই মত প্রকাশ করেন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল। তিনি বলেন, মৌলিক সেবা নিশ্চিত না করে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ বরগুনা টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে চাইলে সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :