আশুরার ফজিলত ও রোজার বিধান, সহিহ হাদিসের আলোকে যা জানা জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ইসলাম ডেস্ক :
আশুরা তথা ১০ মহররম ইসলামের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় দিন। তবে এই দিনের ফজিলত নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বহু বানোয়াট ও জঈফ বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। ফলে সহিহ হাদিসের আলোকে আশুরার প্রকৃত গুরুত্ব ও আমল জানা অত্যন্ত জরুরি।
সহিহ হাদিস অনুযায়ী, আশুরা এমন এক দিন, যেদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে তিনি এ দিনে রোজা রাখতেন। রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) নিজেও আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও এ দিনে রোজা পালনে উৎসাহ দিতেন।
হাদিসে আরও এসেছে, আশুরার দিনটি ছিল সম্মানিত ও বরকতময়। এই দিনে কাবা শরিফে গিলাফ পরানো হতো। এমনকি জাহেলি যুগে কুরাইশরা এবং খায়বারের ইহুদিরাও এই দিনটিকে গুরুত্ব দিত এবং রোজা রাখত।
আশুরার রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এটি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গুনাহ মোচন করে দেয়। এ কারণে রমজানের পর আশুরার রোজাকেই সর্বোত্তম নফল রোজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
জীবনের শেষ দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদি ও নাসারাদের সঙ্গে সাদৃশ্য পরিহারের উদ্দেশ্যে আশুরার সঙ্গে আরও একটি রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে অনুযায়ী ফকিহগণ বলেন, ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। তবে শুধু ১০ মহররমে রোজা রাখলেও তা গুনাহ নয় এবং এর ফজিলত থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহদের মতে, আশুরার রোজা তিনভাবে আদায় করা যায়। ৯, ১০ ও ১১- তিন দিনই রোজা রাখা সর্বোত্তম। এর পরের স্তর হলো ৯ ও ১০ বা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা। আর সর্বনিম্ন স্তর হলো শুধু ১০ তারিখে রোজা রাখা। তবুও সামর্থ্য না থাকলে শুধু আশুরার রোজা রাখলেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে।
সারকথা হলো, আশুরা কেবল ইতিহাসের একটি দিন নয়; বরং এটি ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে আশুরার প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করে সহিহ আমলের তাওফিক দান করেন। আমিন।
আপনার মতামত লিখুন :