জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অষ্টম শ্রেণির সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। তবে অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। সপ্তম শ্রেণির সাময়িক বা বার্ষিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত মেধাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পরীক্ষার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ জারি করেছে। সরকারি মাধ্যমিক-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত বা স্বীকৃত মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক বা সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এ সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।

কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, পূর্ণমান ৪০০

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর থাকবে।

বাংলা, ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা করে। বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা সমন্বিতভাবে নেওয়া হবে। দুই বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে তিন ঘণ্টা, যার মধ্যে প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে নির্ধারিত থাকবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে।

ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি দুই ধরনের হবে। এগুলো হলো ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি। উপজেলা ও থানাভিত্তিকভাবে এসব বৃত্তি নির্ধারণ করা হবে।

বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। নির্দিষ্ট কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে অবশিষ্ট বৃত্তি অন্য পক্ষের যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।

একাধিক শিক্ষার্থীর নম্বর সমান হলে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে পর্যায়ক্রমে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে মেধাক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সব বিষয়ে নম্বর সমান হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমানভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ফি ৬০০ টাকা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীকে বোর্ড ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ মোট ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী এ ফি পরিবর্তন করা যেতে পারে।

শিক্ষা বোর্ডগুলো অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি আদায়ের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি উপজেলা সদরে সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি পরীক্ষা পরিচালনা করবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। দ্রুত ফল প্রকাশের জন্য উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ