আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কই সবচেয়ে মূল্যবান


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

ইসলাম ডেস্ক :

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক ভালোবাসা যে কত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত- তা স্পষ্ট করে তুলে ধরে এক হৃদয়ছোঁয়া হাদিস। এই বর্ণনায় ঈমানি ভ্রাতৃত্ব, জ্ঞান ও তাকওয়ার সম্মান এবং আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

হাদিসের বর্ণনাকারী আবু ইদরিস খাওলানি (রহ.) বলেন, একদিন তিনি দামেস্কের একটি মসজিদে প্রবেশ করে এক যুবককে দেখতে পান, যাঁর দাঁত অত্যন্ত সুন্দর। তাঁর চারপাশে অনেক মানুষ বসে ছিলেন। কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে সবাই সমাধানের জন্য তাঁর দিকেই ফিরে যেতেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। পরে জানতে পারেন, ওই যুবক হলেন সাহাবি মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)।

পরদিন আবু ইদরিস (রহ.) আগেভাগে মসজিদে গিয়ে দেখেন, মুআজ (রা.) ইতোমধ্যে সালাতে দাঁড়িয়ে গেছেন। সালাত শেষে তিনি এগিয়ে গিয়ে সালাম দিয়ে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।” মুআজ (রা.) বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আনন্দের সঙ্গে বলেন, “তাহলে সুসংবাদ গ্রহণ করো। আমি রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে বলতে শুনেছি- আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার জন্য ওঠা-বসা করে এবং সাক্ষাৎ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়।

এই হাদিস থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা একটি মহান ইবাদত। এমন ভালোবাসা প্রকাশ করাও সুন্নত। নেককার ও জ্ঞানী মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করা ঈমানকে দৃঢ় করে। ইসলামে ইলম ও প্রজ্ঞার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আর মুমিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।

সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের ভালোবাসার চেয়েও বড় অর্জন হলো আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসে, তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎ করে—তারা আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসার অধিকারী হন। একজন মুমিনের জীবনে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ