আওয়ামী লীগ আমলে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশ : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্টরা শুধু বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপিই করেনি, ঋণখেলাপির হিসাবেও গড়মিল করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ থেকে বের করে আনতে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাস, জ্বালানি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যা সম্পর্কে দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো অবগত রয়েছে। সরকারও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গোপসাগরে গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো দেশকে সুবিধা দিতেই গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির লংমার্চ করলেই যদি সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চে যেত।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে বিগত সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রক্রিয়া চালু করেছিল। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ উসকানি দিলে তাতে শেষ পর্যন্ত পতিত ফ্যাসিস্টরাই লাভবান হবে। তাই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হতে পারবে।
এদিকে দেশে বর্তমানে বাকস্বাধীনতা অবাধ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বাকস্বাধীনতার নামে যেন শালীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়েও রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :