স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কই নতুন যুদ্ধক্ষেত্র, স্টারলিংক নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্ষোভ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এবং ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স–এর মধ্যে স্টারলিংক সেবার মূল্য ও ব্যবহারের শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা ও সামরিক যোগাযোগে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, এর ব্যয় কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান দিন দিন বিপরীতমুখী হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোন পরিচালনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লক্ষ্য নির্ধারণে স্টারলিংক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। বিশেষ করে কামিকাজি ড্রোন ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থায় এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তবে এখানেই শুরু হয়েছে বিরোধ। স্পেসএক্সের দাবি, সামরিক বাহিনী যে মানের ও পরিসরের সেবা ব্যবহার করছে, তার তুলনায় তারা যথেষ্ট অর্থ দিচ্ছে না। কোম্পানির মতে, উন্নত ও নিরাপদ সামরিক ব্যবহারের জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, বর্তমান অর্থপ্রদান তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে পেন্টাগনের বক্তব্য, স্বল্প সময়ের ড্রোন অপারেশনের জন্য এ ধরনের উচ্চমূল্য গ্রহণযোগ্য নয়।

এই টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয় যখন জানা যায়, পেন্টাগন নতুন করে ড্রোন ও সামরিক ইউনিটে স্টারলিংক ব্যবহারের জন্য প্রায় দ্বিগুণ খরচ দিতে সম্মত হয়েছে। তবুও দীর্ঘমেয়াদে মূল্য নির্ধারণ ও ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা এখনও অমীমাংসিত।

স্টারলিংক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কগুলোর একটি। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই এই প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীগুলো ক্রমেই এই ধরনের বেসরকারি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে ইরানের ভেতরেও নাগরিকদের ইন্টারনেট সংযোগ বজায় রাখতে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ এসব ডিভাইস জব্দের পাশাপাশি জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংযোগ ব্যাহত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং স্যাটেলাইট ও ডেটা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণও বড় কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফলে স্পেসএক্সের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর পেন্টাগনের বাড়তি নির্ভরতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও নীতিগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অবশ্য প্রতিবেদনের জবাবে ইলন মাস্ক তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে রয়টার্সের তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ড্রোনে স্টারলিংকের ব্যবহার বাণিজ্যিক শর্তাবলীর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

তবে প্রতিরক্ষা দফতরের অভ্যন্তরীণ নথি বলছে, মতবিরোধ সত্ত্বেও পেন্টাগন বর্তমানে আরও প্রায় ৩,৫০০টি ‘স্টারশিল্ড’ টার্মিনাল কেনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১০০টি থাকবে উচ্চমূল্যের এভিয়েশন ক্যাটাগরির, যা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স এক্সক্লুসিভ


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ