দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান শেখ হাসিনা, প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পনা নিয়ে


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

অনলাইন ডেস্ক :

মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকা অবস্থায়ও দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন মাধ্যমে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করা একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা এই দাবি করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব বাংলাদেশ।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঘিরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাস্তব পরিকল্পনার চেয়ে কর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এই রায় কার্যকর থাকায় দেশে ফিরলে তাকে সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, শেখ হাসিনা দ্রুত দেশে ফিরতে চান এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, যেভাবে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, সেভাবেই সম্মানের সঙ্গে ফিরবেন।

এদিকে ইউরোপ আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচার মোকাবেলার ইচ্ছার কথা ভারত সরকারকেও জানানো হয়েছে। এমনকি ১৫ আগস্টের আগেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ট্রাভেল পাসের আবেদন করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। টেলিগ্রামে দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক গ্রুপ কলে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনে ফাঁসির মঞ্চে উঠতেও তার আপত্তি নেই।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। তার ভাষায়, এটি রাজনৈতিক স্ট্যান্ট ছাড়া কিছু নয়।

বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ, তৃণমূল নেতাকর্মীরা মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা দলকে আবার মাঠে প্রাসঙ্গিক করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইনি দিক থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে প্রথমেই আইসিটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমাও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আপিল করা যাবে কি না, সেটি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয়।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কি বাস্তব কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত, নাকি চাপের মুখে থাকা দলকে চাঙা রাখার রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। সময়ই এর উত্তর দেবে।ৎ

সূত্র : টাইমস অফ বাংলাদেশ


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ