প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই হাওর রক্ষা উদ্যোগের দাবি সুনামগঞ্জের কৃষকদের


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বন্যা ও অকাল প্লাবনের ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই হাওর রক্ষা উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, কৃষিনির্ভর হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা পুরোপুরি হাওরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সামান্য দুর্যোগও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে বাঁধ ভেঙে গেলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। কৃষকদের দাবি, বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে এক্সকাভেটর ও ভেকু’র মতো আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। উপজেলা পর্যায়ে এসব যন্ত্র সংরক্ষণ করা গেলে দুর্যোগের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে দেরি এবং কাজের মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব যন্ত্রপাতি থাকলে ঠিকাদারের ওপর নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে কাজের মানও নিশ্চিত করা যাবে।

হাওরপাড়ের কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্যাটেলাইট মনিটরিং, ড্রোন সার্ভে ও ডিজিটাল ম্যাপিং ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলের নদী ও খাল নিয়মিত খনন করা জরুরি। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে এবং আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকি কমে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

কৃষকেরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং নদী-খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করলে হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সম্ভব হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ