‘আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের’ কাছে নতিস্বীকার করবে না ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতি ডেস্ক :
‘আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের’ কাছে কখনো নতিস্বীকার করবে না ইরান। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে দেশটি স্পষ্টভাবে এ বার্তা দিয়েছে। তেহরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে ইরানের জনগণ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি বলেন, ইরানের সবচেয়ে জরুরি ও মৌলিক মানবাধিকার বিষয় হলো দেশের নয় কোটি মানুষের জীবন, যারা বেপরোয়া সামরিক আগ্রাসনের ছায়ায় তাত্ক্ষণিক ও গুরুতর বিপদের মুখে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিছু সবচেয়ে আইনবহির্ভূত ও নীতিহীন শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাহরেইনি সতর্ক করে বলেন, যদি এমন বেপরোয়া সামরিকতাবাদ উপেক্ষিত হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের হামলার শিকার হতে পারে।
ইরানের মতে, বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় বাহরেইনি জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাকে আহ্বান জানান, যেন তারা ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বাছবিচারহীন হামলা এবং স্কুলের বেঞ্চে বসে থাকা নিরীহ শিশুদের হত্যার বিষয়ে আলোচনা করে।
ইরান অভিযোগ করেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এক হাজার তিনশ’এর বেশি মানুষ নিহত এবং সাত হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের কাছে ঠিক কী প্রত্যাশা করছে।
বাহরেইনি বলেন, “ইরান এমন জাতি নয়, যারা জোরজবরদস্তি, ভয়ভীতি বা আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :