আমরা একসঙ্গেই থাকব, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। আসুন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও বিভেদের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ থাকার কোনো কারণ নেই। ভুল বোঝাবুঝিরও অবকাশ নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের সমর্থন যতদিন থাকবে, ততদিন সরকার ও শরিক রাজনৈতিক শক্তির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি এবং জুলাই সনদের আলোকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে ছিলেন না, তারাই এখন আন্দোলনের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “আমি নাম বলতে চাই না। তবে ‘গুপ্ত’ শব্দটি বললেই সাধারণ মানুষ বুঝে যায় কার কথা বলা হচ্ছে। আন্দোলনের সময় তাদের রাজপথে পাওয়া যায়নি, কিন্তু স্বৈরাচার পতনের পর তারা ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। এসব গুপ্ত শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শরিক রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে বসে জনগণের সামনে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। তিনি দাবি করেন, জনগণের রায়ের মাধ্যমে সেই ৩১ দফা এখন জনগণেরই কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
দেশ পরিচালনার বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের পর দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রায় সব খাতই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে জনগণকে স্বস্তি দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সঙ্গে একই টেবিলে নৈশভোজে অংশ নিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন।
আপনার মতামত লিখুন :