চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক হতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল এবং মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসক তৈরি করতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই চিকিৎসকদের উচিত রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে স্বাস্থ্য খাতের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোসাইটি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের সব মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা আরও নাজুক।

স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আগের সরকারের আমলে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে তিনি নিজে দেখেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর থাকলেও তেল বরাদ্দ নেই। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। আবার চিকিৎসার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কর্মী ও চিকিৎসা সহকারীর অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে না পারলে শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

চিকিৎসকদের মেধা ও দক্ষতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব দেখা যায়। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দেশের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি মানসম্মত, সহজলভ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামো বা চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজন দক্ষ জনবল, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের মানবিক দায়িত্ববোধ। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ