প্রবাসে বজ্রপাতে নিহত রাসেলের পরিবারে চরম মানবিক সংকট, সহায়তার আশায় চার সন্তান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: মানসুরুল হক রবিন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার এখনো চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান আজ দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা এবং খাদ্যসংকটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন রাসেল মিয়া। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই পরিবারটি আজ অভাব-অনটনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। অনেক দিনই পরিবারের চুলায় রান্না হয় না। চলমান বর্ষা মৌসুমে একটি জরাজীর্ণ ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন।
সরেজমিনে কথা হলে শাহানাজ পারভীন বলেন, স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১৬ দিন পর তার মাও মারা যান। বর্তমানে মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ পাশে নেই। চার সন্তানকে নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। অনেক সময় সন্তানদের পর্যাপ্ত খাবারও জোগাড় করতে পারেন না বলে জানান তিনি। সরকারি সহায়তার আশায় থাকলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
নিহত রাসেলের বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার বলেন, অর্থাভাবে পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় দিনে একবেলা খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে। সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহায়তা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে মারা যান রাসেল মিয়া। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও চার সন্তানসহ পুরো পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
ঈদ উপলক্ষে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা নিহতের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অনুদানের আশ্বাসও দেন। তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী কোনো সহায়তা এখনো তারা পাননি।
প্রতিবেশী আবু রায়হানসহ স্থানীয়রা জানান, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ, একজন প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একজন মানুষের জীবনাবসান নয়, তার পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতেরও বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।
হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার এখন অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সক্ষম ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে চার শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, সরকারি উদ্যোগে পরিবারটিকে সাময়িক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :