বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে হোসেনপুরে ১২ শিক্ষকের ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: মানসুরুল হক রবিন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে ২১ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
জানা যায়, হোসেনপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১৮ সালে জাতীয়করণের পর অবসরজনিত কারণে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক পদ শূন্য হলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষককে খণ্ডকালীন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কলেজ শাখায় দুজন, দিবা শাখায় পাঁচজন এবং প্রভাতী শাখায় পাঁচজনসহ মোট ১২ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগের পর প্রথমদিকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে দুই-তিন মাস পরপর এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন বেতন পরিশোধে অনিয়মের কারণে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাঁদের ২১ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।
শিক্ষকদের দাবি, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেন। তাঁদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তাঁদের অনেকেই সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। পাওনা পরিশোধ না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তাঁরা আরও সংকটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত অমানবিক। তাঁরা তাঁদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
তবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি চলতি বছরের ৪ মার্চ দায়িত্ব নিয়েছেন। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের যে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, তা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়ের। তবে তাঁর দায়িত্বকালের বেতন-ভাতা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন তিনি।
বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে অধ্যক্ষ আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ ও নিরীক্ষা শাখার পরিচালক মশিউর রহমান তাঁকে সতর্ক করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলে ভবিষ্যতে ওই অর্থ তাঁর কাছ থেকে আদায় করা হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের নিয়োগের সময়, চাকরির মেয়াদ ও চাকরিচ্যুতির তারিখ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে অর্থ থাকলে চাকরিচ্যুত করা হলেও বিধি অনুযায়ী যতটুকু দেওয়া সম্ভব, ততটুকু পরিশোধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, আগের সময়ে শিক্ষকরা কাজ করেছেন কি না এবং তাঁদের বেতন কেন বকেয়া রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরই বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। বিষয়টির সুষ্ঠু ও সম্মানজনক সমাধান না হলে তাঁরা আইনগতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :