সুদানের হাসপাতালে ৪৬০ জনকে হত্যা করেছে আরএসএফ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সুদানের এল-ফাশার শহর দখলের কয়েকদিন পর র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস মিলিশিয়ারা প্রধান হাসপাতালে শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান এই খবর বলেছেন।  

টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, হাসপাতালে ৪৬০ জন নিহত হওয়ার খবরে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা বিস্মিত এবং গভীরভাবে মর্মাহত। এর আগে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক বলেছিল, মঙ্গলবার আরএসএফ যোদ্ধারা সৌদি হাসপাতালের ভেতরে যাদেরকে পাওয়া গেছে তাদের সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে।

নিহতদের মধ্যে রোগী, তাদের সঙ্গী ও অন্যান্য মানুষও আছে। তবে তারা হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি। তবে বলেছে, শহরের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব কসাইখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আরএসএফের বিরুদ্ধে চারজন ডাক্তার, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন নার্সসহ ছয়জন চিকিৎসককে অপহরণ করার অভিযোগ করেছে। তাদের মুক্তির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সৌদি হাসপাতালে চালানো এই হামলার খবর স্থানীয় কর্মীদের একটি দল এল-ফাশার প্রতিরোধ কমিটিও জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে সেখানে পরিস্থিতি থমথমে। শহরটি দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল। ১৮ মাস পর রবিবার আরএসএফ এটি দখল করে নেয়।

২০২৩ সাল থেকে আরএসএফ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে চলা গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। এল-ফাশার ছিল রাজধানী দারফুরের সর্বশেষ শহর যেটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ১৭ মাস অবরোধ আরোপ করে গত রবিবার শহরটি দখল করেছে আরএসএফ।

এল-ফাশারের পতনের পর জাতিসংঘ ও সাহায্য সংস্থাগুলো শহরে আটকা পড়া আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের ভাগ্য নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কী ঘটছে তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসি ভেরিফাই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা নতুন ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিনে আরএসএফ যোদ্ধারা বেশ কয়েকজন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, মাঠ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহে অসুবিধার কারণে এল-ফাশার ও তার আশেপাশের ধ্বংসযজ্ঞের পুরো চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। কিছু মানুষ এল-ফাশার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) পশ্চিমে তাওইলা শহরে বিপজ্জনক যাত্রা সম্পন্ন করতে পেরেছে এবং তারা যে চরম সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে তা বর্ণনা করেছে।

এক ব্যক্তি বিবিসি আরবির সুদান লাইফলাইন প্রোগ্রামকে বলেন, ‘শনিবার গোলাগুলি এতো তীব্র ছিল যে, আমাদের কাছে এল-ফাশার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। পথে আরএসএফ আমাদের ভিডিও করেছিল এবং আমাদের মারধর ও অপমান করা হয়েছিল। তারা আমাদের সবকিছু কড়ে নিয়েছে। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যাদের ধরে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে কিছুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাত্রার সময় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করেছি।’

জাতিসংঘের প্রাক্তন শীর্ষ মানবিক কর্মকর্তা জ্যান এগেল্যান্ড বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘এই বঞ্চনা, অনাহার এবং চিকিৎসা সেবার অভাবের মধ্যে গণহত্যা হয়েছে। আমি মনে করি এটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ স্থান, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক জরুরি অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে সুদানে যা ঘটছে, তার প্রতি খুব কম মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ প্রধান সৌদি হাসপাতালে হামলার আগে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ১৮৫টি আক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং ১ হাজার ২০৪ জন মারা গেছে।

এল-ফাশার দখলের পর দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে গেছে। আরএসএফ এখন দারফুরের বেশিরভাগ এবং কর্দোফানের অনেক অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুম ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী মধ্য ও পূর্বাঞ্চল দখল করেছে। দুই যুদ্ধরত প্রতিদ্বন্দ্বী একসময় মিত্র ছিল। ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা একসঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল। তবে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত বেসামরিক শাসনের পরিকল্পনার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

সূত্র : বিবিসি, 
ছবি : রয়টার্স


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ