বন্যার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে ফারুয়া, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো: সুমন খান, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে গেলেও রেখে গেছে ধ্বংসস্তূপ, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ফারুয়া বাজার এখন কাদামাটি, ভাঙাচোরা দোকানঘর এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্যে ভরা এক নিস্তব্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ফারুয়া বাজারের শতাধিক দোকান এবং অসংখ্য বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাল, ডাল, তেল, কাপড়, ওষুধ, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি দোকানের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই নয়, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু পরিবারের বসতঘর। পানি নেমে গেলেও অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের পুঁজি কয়েক ঘণ্টার বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এখন দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন, “বন্যার পানিতে দোকানের প্রায় সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন।”

একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, “পানি চলে গেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট যায়নি। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়েছে। সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার কারণে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফারুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই সেই তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”

বন্যার পানি নেমে গেলেও ফারুয়া বাজারের মানুষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ কত দ্রুত পৌঁছাবে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ