বরগুনায় মা ও দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

জাকিয়া সুলতানা, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ থেকে মা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার সাত দিন পর অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরুতে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধারণা করা হলেও পরে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেন। ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

গত ৩ জুন বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৫), তার ১২ বছরের মেয়ে আরাধা বিশ্বাস এবং ৩ বছরের ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যাজনিত ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করেছিল।

তবে নিহতদের পরিবার শুরু থেকেই এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রক্রিয়ায় দেরি ও জটিলতার অভিযোগও তুলেছেন।

নিহত ইতি রানীর স্বজনদের অভিযোগ, তারা বারবার থানায় মামলা করতে গেলেও নানা কারণে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। যদিও বরগুনা সদর থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় এর আগে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছিল। এখন নতুন হত্যা মামলার পাশাপাশি আগের মামলার তদন্তও চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি-এর ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, ভিসেরা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায় তদন্ত আরও বিস্তৃত ও গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় এখনো ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ