ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সাল থেকে দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে, এবার সেই গণতন্ত্রকে সুসংহত করার সময়। এই প্রক্রিয়াতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে প্রচলিত কারিকুলাম যুগোপযোগী করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা যেন কেবল সার্টিফিকেটনির্ভর না হয়ে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার এবং উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় মনোযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চা যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :