কোরআনের আয়াত ও ইবরাহিম (আ.)-এর ঘটনা, সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ও শিক্ষা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

ইসলাম ডেস্ক :

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

قَالَ بَلۡ فَعَلَهٗ ٭ۖ كَبِیۡرُهُمۡ هٰذَا فَسۡـَٔلُوۡهُمۡ اِنۡ كَانُوۡا یَنۡطِقُوۡنَ

অর্থ: “সে বলল, বরং তাদের এই বড় মূর্তিটিই এটি করেছে। যদি এরা কথা বলতে পারে তবে এদেরকেই জিজ্ঞেস কর।”
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৬৩)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করার জন্য মূর্তিপূজার ভ্রান্তি প্রমাণ করতে মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলেন এবং সবচেয়ে বড় মূর্তিটিকে রেখে দেন। পরে জাতির লোকেরা এসে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন—“এ কাজ তো এই বড় মূর্তিটিই করেছে।

এরপর তিনি বলেন, যদি এগুলো সত্যিই উপাস্য হয়, তবে এদের জিজ্ঞেস করো—এরা কথা বলতে পারে কি না। এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যে বস্তু কথা বলতে পারে না, উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না, তা কখনোই ইলাহ (উপাস্য) হতে পারে না।

হাদিসে উল্লেখিত প্রসঙ্গ

সহিহ হাদিসে এসেছে, নবী মুহাম্মদ (সা.) উল্লেখ করেন যে, হজরত ইবরাহিম (আ.) কিছু পরিস্থিতিতে এমন বক্তব্য ব্যবহার করেছিলেন যা বাহ্যিকভাবে ভিন্ন অর্থ বহন করলেও তা ছিল বিশেষ পরিস্থিতি ও আল্লাহর উদ্দেশ্য পূরণের অংশ। (সহিহ বুখারি)

আলেমদের ব্যাখ্যায় একে “তাওরিয়া” বলা হয়—অর্থাৎ এমন কথা বলা যার বাহ্যিক অর্থ এক হলেও উদ্দেশ্য ভিন্ন। নবী-রাসুলরা কখনো দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেননি; বরং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য হিকমতপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা


ইবরাহিম (আ.) ছিলেন তাওহীদের (একত্ববাদের) দৃঢ় অনুসারী এবং শিরকের বিরুদ্ধে আপসহীন।


মূর্তি বা কোনো সৃষ্ট বস্তু ইবাদতের যোগ্য নয়, কারণ তা নিজে কোনো ক্ষমতা রাখে না।


সত্যের পথে থাকতে হলে সামাজিক বিরোধিতা সত্ত্বেও সাহসী হতে হয়।


বাতিলকে প্রতিহত করতে প্রজ্ঞা ও কৌশল ব্যবহার করা বৈধ ও প্রয়োজনীয়।


আল্লাহর পথে দৃঢ় অবস্থানই প্রকৃত সফলতার পথ।


ইবরাহিম (আ.)-এর এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যুক্তি, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় ঈমানের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ