একাত্তরের পর জুলাই আন্দোলনেও জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে তারা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

একাত্তরে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া গোষ্ঠী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও একই কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ মুখে এক কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে বিএনপির এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে, তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল। তাঁদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করে, একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেও ধারণ করে। এ কারণেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে দলটি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেসব দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, যারা মুখে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার কথা বলে, তাদের কর্মকাণ্ডেও সেই অবস্থানের প্রতিফলন থাকা উচিত।

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অর্থায়নের অভিযোগ

দেশের কয়েকটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে খবর রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ অর্থ দিচ্ছে, আর দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ সেই অর্থের সহায়তায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ দুই পক্ষের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে জনসভায় তিনি বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর প্রসঙ্গ

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, তখন কিছু দল ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে প্রচার করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু রাখা হবে কি না। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাইলে আগামী পাঁচ বছর বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একাত্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

জনসভায় বিএনপির নেতারা

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনসহ অন্য নেতারা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ