রামগতি-কমলনগরে বেরিবাঁধ নির্মাণে মানসম্মত কাজ, মুখে হাসি ফুটেছে উপকূলের মানুষের


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো: হাসান হাওলাদার, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রিতিনিধ :

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার উপকূলবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে চলমান বেরিবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান ভালো হওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা কমেছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি আশাবাদী।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরজুড়ে পুরোদমে চলছে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ। মাটি ভরাট, বালুভর্তি জিওব্যাগ স্থাপন এবং বাঁধের বিভিন্ন অংশে শক্তিশালীকরণের কাজ চলছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। পুরো প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থেকে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে সামান্য জোয়ার বা নদীর ঢেউ এলেই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হতো। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। তাদের ভাষায়, "আগে একটু ঢেউ এলেই বুক কেঁপে উঠত। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে কাজ হচ্ছে। কোথাও ভাঙন দেখা যাচ্ছে না। আমরা অনেক আনন্দিত। আল্লাহর রহমতে এই বাঁধ আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করবে—এটাই আমাদের আশা।"

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, "আমরা সার্বক্ষণিক প্রকল্পের কাজ তদারকি করছি এবং নিয়মিত সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ইতোমধ্যে প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যেই নির্ধারিত সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করছেন। মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তাই কাজের মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না।"

স্থানীয়দের বিশ্বাস, টেকসই এই বেরিবাঁধ নির্মাণ শেষ হলে রামগতি ও কমলনগরের কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, বসতভিটা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান কাজের গতি ও মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং বহু বছরের ভাঙন-আতঙ্কের অবসান ঘটবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ