বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে সমন্বিত সার্ভিস রুলস, উদ্যোগ সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
দেশের বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর আসতে যাচ্ছে। চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করতে যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি খাতে ন্যূনতম বেতন কাঠামো, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, বার্ষিক ও নৈমিত্তিক ছুটি, বাধ্যতামূলক নিয়োগপত্র, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও হয়রানি প্রতিরোধ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং চাকরির স্থায়িত্বের মতো বিষয়গুলো আইনি সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১০ মে সচিবালয়ে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত মতামত পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন কিংবা নতুন ধারা সংযোজন করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কমিটির প্রধান মোস্তফা জামান বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীরা চাকরির নিরাপত্তাহীনতা, হঠাৎ ছাঁটাই, মাতৃত্বকালীন ছুটি না পাওয়া কিংবা সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। এসব সংকট কমাতেই সমন্বিত সার্ভিস রুলসের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া উবার, পাঠাও, ফুডপান্ডা-এর মতো অ্যাপভিত্তিক বা গিগ অর্থনীতিতে যুক্ত কর্মীদের জন্য আলাদা নীতিমালার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে এসব খাতের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস রুলস না থাকায় নতুন কাঠামোয় তাদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মজীবী মানুষের বড় একটি অংশ বেসরকারি খাতে কাজ করেন। ফলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাখো চাকরিজীবীর কর্মজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :