ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, চাপে রিপাবলিকানরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সামান্য ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে চাপে পড়েছেন তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব পড়েছে মার্কিন রাজনীতিতে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। অসন্তুষ্টদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকেরাও রয়েছেন। দলটির প্রতি চারজন সমর্থকের একজন ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন সময়ে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলেছেন, নির্বাচনের পর জ্বালানি তেলের দাম কমবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেননি।
এদিকে যুদ্ধের অবসান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।
তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। এর পর বৃহস্পতিবার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো পক্ষের হাতে তুলে দেবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই পরিস্থিতি রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :