যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার ক্ষত সারিয়ে সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন করছে ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অবকাঠামো ধারণার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠন করছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএসজে জানায়, পশ্চিম ইরানের কানগাভার এলাকার একটি কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার পর ধ্বংস হওয়া দুটি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ও সংলগ্ন সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে ওই স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেলেও কয়েক সপ্তাহ পরের এয়ারবাসের স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে নতুন করে খনন করা সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ এবং পুনর্নির্মিত পাকা সড়কের চিত্র পাওয়া গেছে।
ডব্লিউএসজে আরও জানায়, ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতুও ইরান কয়েক দিনের মধ্যে মেরামত করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী বন্দর শহর বান্দার আনজালির একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানায় আংশিক পুনর্গঠনের কাজও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। ওই স্থাপনাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর আগে দাবি করেছিল, কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলে ইরানের কয়েকটি নৌ-স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
আইডিএফের সাবেক বিমান প্রতিরক্ষা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রান কোখাভ বলেন, ইরান দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তার মতে, শিল্প উৎপাদন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য।
ডব্লিউএসজে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কেবল ভূ-পৃষ্ঠের প্রবেশমুখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও মূল স্থাপনা অক্ষত থাকায় প্রবেশপথ পুনরায় চালু করলেই এসব ঘাঁটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের দেজফুল এবং পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহর সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্রেও একই ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, তেহরানের কাছে অবস্থিত রাজা শিমি ইন্ডাস্ট্রিজেও আংশিক পুনর্গঠনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উপাদান উৎপাদনকারী স্থাপনা পুরোপুরি পুনর্গঠনে সময় লাগতে পারে। তবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম আগেই ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থাপনায় মজুত করে রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ডব্লিউএসজে’র আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান গত বছর হাজার হাজার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ নাটাঞ্জের কাছে গভীর ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলার মুখেও পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
তবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :