দীর্ঘদিনের পানির সংকট কাটিয়ে সুপেয় পানির আওতায় বান্দরবানের পাহাড়ি দুই গ্রাম


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান

দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট কাটিয়ে নিরাপদ পানির সুবিধা পেতে যাচ্ছে বান্দরবান সদর উপজেলার দুটি পাহাড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুরে গভীর নলকূপ, পানির হাউজ এবং পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া হবে, যা দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বছরের পর বছর এসব গ্রামের মানুষকে সুপেয় পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়া শুকিয়ে গেলে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। প্রতিদিন ভোরে কলসি ও বালতি নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনাই ছিল তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেমিডুলু পাড়া ও ইসলামপুরে প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। ঝিরি ও কূপের ওপর নির্ভরশীল বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অথবা অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।

এই সংকট দূর করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই এলাকায় ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তোলিত পানি সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউজ।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ করছে শিবলী এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুরে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পানির হাউজ নির্মাণ চলছে। একইভাবে কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়াতেও প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কাজ শেষ হলে পানির হাউজে সংরক্ষিত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানীয়দের বাড়িতে সরবরাহ করা হবে।

ইসলামপুরের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, গ্রীষ্মকাল এলেই পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হতো। নতুন প্রকল্পটি শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।

চেমিডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু বলেন, প্রায় ৩০০ পরিবারের মানুষ পানির জন্য দুর্ভোগে ভুগছেন। কূপের পানি সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। নতুন পানির হাউজ নির্মাণ শেষ হলে এই ভোগান্তির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্প তদারককারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পানির সংকটই দূর হবে না, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।

চেমিডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু বলেন, প্রায় ৩০০ পরিবারের মানুষ পানির জন্য দুর্ভোগে ভুগছেন। কূপের পানি সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। নতুন পানির হাউজ নির্মাণ শেষ হলে এই ভোগান্তির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্প তদারককারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পানির সংকটই দূর হবে না, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ