প্রেমের সম্পর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, ঘাতক আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট মহানগরীর রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। পেশায় রংমিস্ত্রি বাবুল মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনার জানান, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে দ্রুত একটি বিশেষ টিম গঠন করে। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত তিনজনের সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আগে ওই বাসায় রাজমিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রির কাজও করেছিলেন বাবুল।
বুধবার সকালে একটি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় যান বাবুল। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে তাহমিনার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
তিনজনকে হত্যার পর বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান বাবুল। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধারে অভিযান চলছে। বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল এলাকায় ছুরিটি খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। এছাড়া বাবুল নিজের বাড়ি চাঁদপুরে বলে দাবি করলেও তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঠিকানা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টার দিকে ওই বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে সকাল ১০টার দিকে রঙের কাজের জন্য এক মিস্ত্রি এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। একপর্যায়ে পাশের ভবনের এক ভাড়াটে বাসার দরজার নিচ দিয়ে বারান্দায় রক্ত গড়িয়ে বের হতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা জড়ো হলে পুলিশকে জানানো হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তার এবং অন্য একটি কক্ষে সুরাইয়া বেগম ও তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। বাসার দক্ষিণ পাশের একটি দরজা দিয়ে হত্যাকারী পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দোতলা থেকে নিচে নামার পথেও রক্তের দাগ পাওয়া যায়।
আপনার মতামত লিখুন :