জরিপে সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন, সন্তুষ্টির শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর সরকারের কার্যক্রম নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জনসমর্থনের চিত্র উঠে এসেছে। ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ অনুযায়ী, ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট। তবে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড এবং দেশ কোন পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। আগস্ট মাসে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত জরিপে প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এ সময় মোট ১০ হাজার ৪১৩টি কল করা হয়।

জরিপে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন না। আর ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার প্রায় একই রকম। বিভিন্ন শ্রেণিতে এই হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতেও সন্তুষ্টির হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি।

দলীয় সমর্থনের হিসাবেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তুলনামূলকভাবে উচ্চ সমর্থন দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জরিপে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ।

দেশ সঠিক পথে কি না, বিভক্ত জনমত

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে চলছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।

দলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে এ প্রশ্নে মতভেদও স্পষ্ট। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম

জরিপে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য। ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে এবং ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা (৩২ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং কর্মসংস্থান (৩০ দশমিক ৮ শতাংশ)।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ব্যাপক অসন্তোষের কথা জানিয়েছে জরিপ। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন। জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এ হার ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিত্যপণ্যের দামের ক্ষেত্রে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ।

সামনে ভালো দিনের প্রত্যাশা

নিজেদের পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের অবস্থা খারাপ হয়েছে। ভালো হয়েছে বলেছেন ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে আগামী ১২ মাস নিয়ে কিছুটা আশাবাদী মানুষ। ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেন, আগামী এক বছরে তাদের পারিবারিক অবস্থা ভালো হবে। বিপরীতে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এ ছাড়া ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দেশ নিয়ে এক বছর আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী বলে জরিপে উঠে এসেছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও গণভোটের রায়ে সমর্থন

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ফ্যামিলি কার্ডকে সমর্থন করেছেন। করনীতির প্রতি সমর্থন রয়েছে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশের। আর ৭০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

জরিপে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রহণযোগ্যতারও একটি চিত্র পাওয়া গেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাজকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা।

প্রতিবেদনে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি মানুষের উল্লেখযোগ্য আস্থা থাকলেও দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ এখনো বড় হয়ে রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ