হরমুজে নিরাপত্তা ফি আরোপ হলে চাপে পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি আরোপের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে বৈশ্বিক শিপিং খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিপিং কোম্পানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ ধরনের ফি কার্যকর হলে তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে পরিবহন করা সব ধরনের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যে ব্যয় হচ্ছে, তা পূরণ করতেই এ অর্থ নেওয়া হবে।

তবে প্রস্তাবিত এই ফি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। পণ্যের মূল্য, জাহাজের আকার নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে এই ফি হিসাব করা হবে- তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি পণ্যের মূল্যের ওপর এই ফি আরোপ করা হয়, তাহলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে জ্বালানি পরিবহনে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

আইএনজি রিসার্চের লজিস্টিকস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ রিকো লুম্যান বলেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপে এক ব্যারেল তেল পরিবহনে ট্যাংকার কোম্পানিগুলো গড়ে প্রায় ১০ ডলার খরচ নেয়। যদি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলার ধরা হয়, তাহলে ২০ শতাংশ ফি হিসেবে অতিরিক্ত ১৬ ডলার যোগ হতে পারে। এতে প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনের ব্যয় প্রায় ২৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। কারণ এটি বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শিপিং খাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের পক্ষে অবস্থান নিলেও নতুন এই ফি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ