পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিভক্ত হচ্ছে, গঠনের পথে নতুন ‘বরগুনা পবিস’
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জাকিয়া সুলতানা, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :
সেবা সহজীকরণ ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিভক্ত করে সম্পূর্ণ নতুন ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তুলনামূলক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা, গ্রাহকসংখ্যা, জনবল কাঠামো ও আর্থিক সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পটুয়াখালী পবিসের মোট আয়তন ৪,৯৪৩ বর্গকিলোমিটার। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে থাকবে ৩,০৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং প্রস্তাবিত বরগুনা পবিসের আওতায় আসবে ১,৮৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা। এর সঙ্গে গ্রাহকসংখ্যাতেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে মোট গ্রাহক ৭,৩৪,১৯১ জন হলেও বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে গ্রাহক থাকবে ৫,১০,২৮৬ জন এবং নতুন বরগুনা পবিস পাবে ২,২৩,৯০৫ জন গ্রাহক।
কারিগরি সূচকে দেখা গেছে, বর্তমান পটুয়াখালী পবিসের সামগ্রিক সিস্টেম লস ১১.১৬ শতাংশ। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে এটি কমে ১০.৯২ শতাংশে নামবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বরগুনা পবিসের সিস্টেম লস ধরা হয়েছে ১২.৭১ শতাংশ।
আর্থিক চিত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে পটুয়াখালী পবিসের বার্ষিক নিট লস ৭২.০২ কোটি টাকা। বিভাজনের পর নতুন বরগুনা পবিসের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১১২.৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া সদর দপ্তর ভবন, আবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউস নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।
জনবল কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে পটুয়াখালী পবিসে ২৮ জন কর্মকর্তা ও ৪৯৬ জন নিয়মিত কর্মচারী কর্মরত। প্রস্তাবিত কাঠামোতে পটুয়াখালী অংশে থাকবে ২২ জন কর্মকর্তা ও ৩৩৬ জন কর্মচারী। নতুন বরগুনা পবিসে বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ জন কর্মকর্তা ও ২১৬ জন নিয়মিত কর্মচারী। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বরগুনা পবিসের অধীনে ৩টি জোনাল অফিস, ৩টি সাব-জোনাল অফিস, ১২টি অভিযোগ কেন্দ্র এবং ৪টি উপকেন্দ্র চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, নতুন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন বরগুনার প্রান্তিক ও অবহেলিত গ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। আলাদা সমিতি হলে প্রশাসনিক জটিলতা ও দূরত্ব কমবে, দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। দুর্যোগ বা কারিগরি সমস্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং নতুন সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হবে, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :