ইন্টারপোলের রেড নোটিসে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ, দ্রুত দেশে আনার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ-কে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যাস্টিয়ার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা। এর অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয় এবং বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করে এবং সেই নোটিসের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
তিনি বলেন, ইউএই ফেডারেল ল নম্বর ৩৯ অফ ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪০৮, ৪৭১ ও ৪০৯ ধারা, ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে দুদক প্রত্যার্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্তসংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি একে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশ বেরিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, “অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :