ধর্মীয় আয়োজনে দিশার পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিনোদন ডেস্ক :
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আম্বানি পরিবারের আয়োজিত গণপতি উৎসবে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি। উৎসবের সাজে লাল লেহেঙ্গা, একই রঙের ব্লাউজ ও এক কাঁধে জড়ানো ওড়নায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। তবে উৎসবে তাঁর উপস্থিতির চেয়ে পোশাক নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীতে আম্বানি পরিবারের গণপতি উৎসবে অংশ নেন দিশা। তাঁর পরনে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লাল ঘাগরা, সঙ্গে লাল ব্লাউজ। এক কাঁধে জড়ানো ওড়না, বড় দুল, চুড়ি ও খোলা চুলে উৎসবের সাজ সম্পূর্ণ করেন অভিনেত্রী। অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় আলোকচিত্রীদের সামনে পোজও দেন তিনি।
দিশার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পোশাক নিয়ে শুরু হয় নানা মন্তব্য। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন পোশাক কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার তারকাদের ধর্মীয় আয়োজনকে ফ্যাশন প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করা উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন।
এক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, গণপতি উৎসবের জন্য এমন পোশাক কতটা মানানসই, তা নিয়ে ভাবা উচিত। আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, গণেশ উৎসবে দিশার পোশাক আদৌ উপযুক্ত কি না। কেউ কেউ আরও কড়া মন্তব্য করে লিখেছেন, দিশা গণপতি উৎসবে গিয়েছিলেন, নাকি র্যাম্পে হাঁটতে।
সমালোচকদের যুক্তি মূলত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশাকে ঘিরে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, পোশাক বেছে নেওয়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় হলেও ধর্মীয় আয়োজনের পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
তবে দিশার পোশাক নিয়ে চলমান এই সমালোচনার বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি অভিনেত্রী।
দিশাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে একই ধরনের আলোচনায় এসেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। গয়না ব্র্যান্ড জিআইভিএর রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনে কৃতিকে ব্রালেটধাঁচের ব্লাউজ, কেপ ও ড্রেপ করা স্কার্টে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশে সমালোচনা শুরু হলে পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ওই বিতর্কের সময় কৃতি নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেছিলেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিষয়টি পোশাকের গলার কাট দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।
এবার দিশা পাটানির পোশাক ঘিরে শুরু হওয়া আলোচনা সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত পোশাকের পছন্দ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় থাকা উচিত, তা নিয়েই চলছে আলোচনা।
আপনার মতামত লিখুন :